গত বছরের জুলাই থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে তীব্র হয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও সংকুচিত হয়েছে। তবে এ ধরনের প্রতিকূল ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি বেড়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের। এ সময়ে কোম্পানিটির জমি বিক্রি থেকে ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে ৭১ দশমিক ২৩ শতাংশ আয় বেড়েছে। কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আয় হয়েছে ১২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর মধ্যে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে জমি বিক্রি থেকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১০৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রথমার্ধে ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে ১৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে কোম্পানিটির, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা।
এদিকে চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৮৫ টাকা ৮৯ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ইস্টার্ন হাউজিং। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৩৭ পয়সা। গত ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৬২ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইস্টার্ন হাউজিং। ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২০-২১ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে তারা।
ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের সর্বশেষ সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের মাধ্যমে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।
১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন হাউজিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৮৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৩।
এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৩ দশমিক শূন্য ৯, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে বাকি ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ার সর্বশেষ ৬৭ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪৭ টাকা ৩০ থেকে ৯৯ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করেছে।